প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 21, 2026 ইং
ইফতার ও সেহরিতে বিটরুট রাখার উপকারিতা

রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে ইফতারের আগে শক্তির ঘাটতি এবং হজমের সমস্যা অনেকেরই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সময় সঠিক খাবার নির্বাচন করলে শরীর সুস্থ রাখা সহজ হয়। রমজানের খাদ্যতালিকায় বিটরুট এমন একটি সবজি, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং রোজাদারদের জন্য বেশ উপকারী।
নিচে রমজানে বিটরুট খাওয়ার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
১. দ্রুত শক্তি জোগায়
বিটরুটে প্রাকৃতিক চিনি ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। ইফতারে বিটরুট খেলে রোজা ভাঙার পর যে ক্লান্তি ও অবসাদ দেখা দেয়, তা অনেকটাই কমে আসে। যারা ইফতারের পর দুর্বল অনুভব করেন, তাদের জন্য এটি কার্যকর একটি খাবার।
২. রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক
বিটরুট আয়রন ও ফলেটসমৃদ্ধ। যারা রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন, তাদের জন্য বিটরুট উপকারী হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বিটরুট খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত হতে সহায়তা করে, যা রমজানে শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
বিটরুটে প্রাকৃতিক নাইট্রেট থাকে, যা রক্তনালী প্রসারিত করতে সহায়ক। এর ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য হতে পারে। যাদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য ইফতার বা সেহরিতে বিটরুট ভালো সংযোজন হতে পারে।
৪. হজমে সহায়ক
ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় বিটরুট হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করে। রমজানে অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত বিটরুট খেলে এসব সমস্যা কমতে পারে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৫. পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে
বিটরুটে পানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। ইফতারে বিটরুটের সালাদ বা জুস শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে শরীরে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে এটি উপকারী।
৬. লিভার ভালো রাখে
বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সহায়ক। রমজানে ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার বেশি খাওয়া হলে লিভারের ওপর চাপ পড়ে। সে ক্ষেত্রে বিটরুট লিভারের ক্ষতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে খাবেন বিটরুট
-
ইফতারে বিটরুট, শসা ও গাজর দিয়ে সালাদ
-
অতিরিক্ত চিনি ছাড়া বিটরুটের হালকা জুস
-
সেহরিতে অল্প পরিমাণ সিদ্ধ বিটরুট
সতর্কতা
-
ডায়াবেটিস থাকলে বিটরুট পরিমিত পরিমাণে খান
-
কিডনিতে পাথরের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ বিটরুটে অক্সালেট থাকে
সব মিলিয়ে, সঠিক পরিমাণ ও নিয়ম মেনে বিটরুট খেলে রমজানে শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখা সহজ হয়। তবে যেকোনো খাবারের মতোই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা