
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান এবং মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংগঠন জানিয়েছে, ২০১৫ সালে প্রদত্ত অষ্টম পে-স্কেলে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা বৈষম্যের মধ্যে পড়েছেন। এই বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও কোন প্রকার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সংগঠন তুলনা করেছে, ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে বিএনপির সরকারের সময় দুটি পে-স্কেল সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
সংগঠন আরও জানিয়েছে যে, বিগত ১১ বছর ধরে এই কর্মচারীরা পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে ৬ সদস্যের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০১৯ সাল থেকে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবেদন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
মাহমুদুল হাসান ও ওয়ারেছ আলীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৮ম পে-কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং রিপোর্ট ইতোমধ্যেই সরকারের কাছে প্রদান করা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে ১১ বছরের অপেক্ষার পর বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠন তাদের কর্মসূচি নিম্নরূপ ঘোষণা করেছে:
২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতারা মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
রমজান মাসব্যাপী বিভাগীয় শহরগুলোতে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিধি সমাবেশ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম চলবে।
সংগঠন সতর্ক করেছে যে, ১৫ মার্চের মধ্যে সরকার দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংগঠন মনে করিয়ে দিয়েছে, কর্মচারীরা ১১ বছরের অপেক্ষার পর এখনও বৈষম্যহীন পে-স্কেল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ কর্মচারীর জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এবারের কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয় এবং স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠন আশা করছে যে, এই কর্মসূচি সরকারের নজরে আসবে এবং ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।