
কৃষি, খাদ্য, মৎস ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশীদ বলেছেন, দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা ও আকাঙ্খা রয়েছে। আগামীর বাংলাদেশ হবে বাকস্বাধীনতার বাংলাদেশ এবং সমৃদ্ধির বাংলাদেশ—সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মতবিনিময়কালে কুমিল্লার কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও প্রশাসনিক উন্নয়ন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারক ড. আখতার হামিদ খান। সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনিই সর্বপ্রথম এই অঞ্চলে কৃষিকে আধুনিকতার ছোঁয়া দেন। তার উদ্ভাবিত ‘কুমিল্লা মডেল’ আজও দেশ-বিদেশে প্রশংসিত ও অনুসৃত হচ্ছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই কৃষিখাতে আরও অগ্রগতি সাধনের কথা জানান তিনি।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আমিও একজন কৃষক। আমি জানি কীভাবে ধান ফলাতে হয়।” কৃষকদের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুমিল্লাসহ সারা দেশের কৃষি উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
শিল্পখাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ তিনিই নিয়েছিলেন। সে সময় স্থানীয়দের উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে কুমিল্লায় এক ধরনের শিল্প বিপ্লব ঘটে গেছে। অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছে এবং কর্মসংস্থান বেড়েছে। এই অগ্রগতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উর রশীদ বলেন, তিনি সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন না এবং সরকারি গাড়িও ব্যবহার করেন না। এমনকি তেলের খরচও নেন না। ভবিষ্যতেও এই নীতি বজায় রাখবেন বলে জানান তিনি। তার মতে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবাই তার প্রধান দায়িত্ব।
কুমিল্লার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করতে চান। কুমিল্লাকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী হিসেবে নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। এ অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের দাবি কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি তার অবস্থান থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে আমিন উর রশীদ বলেন, নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা সহযোগিতা করলে তিনি জনগণের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি **রেজাউল কাইউম**সহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।