
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের পণ্য আমদানি বা রপ্তানি হচ্ছে না। একই সঙ্গে বন্দরের পানামা পোর্ট এলাকার অভ্যন্তরে পণ্য ওঠা-নামাসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। সকালে বন্দর এলাকায় স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য না থাকায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শাহিনুর ইসলাম মন্ডল জানান, আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এই দিবসের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে আজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য ওঠা-নামা, পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই বন্ধ সাময়িক এবং আগামীকাল রোববার থেকে বন্দরের সব কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে বলে তিনি জানান।
হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আদান-প্রদান হয়ে থাকে। ফলে এক দিনের জন্য হলেও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কিছুটা আর্থিক স্থবিরতা দেখা দিলেও ব্যবসায়ীরা একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক বলেই দেখছেন।
এদিকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট-এর অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি জানান, ভাষা দিবস উপলক্ষে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে যাত্রীরা দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করছেন।
উল্লেখ্য, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে সীমিত সময়ের জন্য বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।