
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন জাতীয় পার্টি-এর নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, একদল জনতা তাদের ব্যানার দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ব্যানার ও ফুলের তোড়া কেড়ে নেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জাতীয় পার্টির নেতারা শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসছিল। এরই মধ্যে এনসিপি-এর একটি মহানগর ইউনিট পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে।
এনসিপির ওই ইউনিটের নেতাকর্মীদের পেছন পেছন ব্যানার ও ফুলের তোড়া হাতে শহীদ মিনারে ঢুকছিলেন জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কোনো পরিচিত শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি।
এনসিপির দলটি পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। এ সময় জাতীয় পার্টির ব্যানার চোখে পড়লে তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়। দ্রুতই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ জাতীয় পার্টির ব্যানার ও ফুলের তোড়া কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ না করেই শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন। তারা ফুল ও ব্যানার সেখানেই রেখে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় শহীদ মিনার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে পুরো ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং অন্যান্য সংগঠন নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রাখে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ এদিন শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এবারের আয়োজনে বিভিন্ন সংগঠনের উপস্থিতির মধ্যেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এ বিষয়ে জাতীয় পার্টি বা এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শহীদ মিনারের মতো জাতীয় আবেগের স্থানে এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সবার সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।