
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” এবং তথাকথিত ‘দ্বিতীয় শপথ’ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক বৈধতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর।
লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংবিধানে সুস্পষ্ট বিধান না থাকলে কোনো সংসদ সদস্যকে অতিরিক্ত বা দ্বিতীয় কোনো শপথ গ্রহণে বাধ্য করা হলে তা সাংবিধানিক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংবিধানের সঙ্গে এর পূর্ণ সামঞ্জস্য এবং স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন। এর নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো প্রক্রিয়া চালু করা হলে তা বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ না থাকা অবস্থায় আলাদা কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ কতটা আইনসঙ্গত।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য দুটি পৃথক শপথপত্র প্রস্তুত করা হয়—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ করলেও সংস্কার পরিষদের শপথ থেকে বিরত থাকেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো ছাড়া এ ধরনের শপথ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, কয়েকটি রাজনৈতিক দল সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে এটিকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত স্পষ্ট হয়েছে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। নতুন কোনো কাঠামো গঠন বা সংশ্লিষ্ট শপথ কার্যকর করার আগে তার সাংবিধানিক বৈধতা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তানিয়া আমীর–এর মন্তব্যের পর বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বলছে, সংবিধান ও আইনের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই সমাধান খোঁজা উচিত।