দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের টিএনটি নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুই যুবক একই মোটরসাইকেলে আরোহী ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন—ঘোড়াঘাট উপজেলার শালিকাদহ গ্রামের মিজানুরের ছেলে সজিব হাসান এবং একই গ্রামের তৌহিদুলের ছেলে রাব্বি। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, দুই তরুণের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর দিক থেকে একটি ট্রাক গোবিন্দগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি বিরামপুর অতিক্রম করার সময় টিএনটি এলাকার সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল সেটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় মোটরসাইকেলটি ট্রাকের খুব কাছ দিয়ে সামনে যেতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে ট্রাকের নিচে চলে যায়।
দুর্ঘটনার মুহূর্তে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দুজনের মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি থামানো ছাড়াই চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ট্রাকটি শনাক্ত ও চালককে আটক করার জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই বলেন, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি তুলনামূলক ব্যস্ত একটি সড়ক। এখানে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান চলাচল করে। তবে সড়কে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও গতিনিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টিএনটি এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এখানে ওভারটেক করার সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হলেও অনেক সময় তা মানা হয় না। এর ফলে মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, সজিব হাসান ও রাব্বি ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেলে বের হয়েছিলেন। কে জানত, সেটিই হবে তাদের শেষ যাত্রা। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত ট্রাকচালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভারটেক করার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা এবং ভারী যানবাহনের আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করা মারাত্মক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও প্রাণঘাতী হতে পারে।
এ ঘটনায় আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।
সব মিলিয়ে, বিরামপুরে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু একদিকে যেমন দুটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি, অন্যদিকে তেমনি সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
