
যশোরের কেশবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস সালাম (৩৫) নামে এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেল ও ইটবাহী ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। একই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই কন্যা গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেশবপুর–গোলাঘাটা সড়কের মির্জাপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুস সালাম কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত সবেদ আলীর ছেলে। তিনি কেশবপুর শহরের মধুসড়কে অবস্থিত ইব্রাহিম গার্মেন্টের ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয়ভাবে একজন পরিশ্রমী ও পরিচিত ব্যবসায়ী হিসেবে তার সুনাম ছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আব্দুস সালাম তার স্ত্রী তানিয়া খাতুন (৩০) এবং দুই মেয়ে মাওয়া (১০) ও মহুয়া (৬)-কে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কেশবপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বাজার করতে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা রওনা হয়েছিলেন। পথে কেশবপুর–গোলাঘাটা সড়কের মির্জাপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবাহী ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় আব্দুস সালাম ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহত স্ত্রী ও দুই মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে তানিয়া খাতুন এবং দুই শিশুকন্যার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অবস্থার ওপর নজর রাখছেন। আহত শিশুদের মানসিক অবস্থাও ভালো নয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এই দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইমুন হোসাইন। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে আহত হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত আব্দুস সালামের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আব্দুস সালাম ছিলেন একজন শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কেশবপুর–গোলাঘাটা সড়কে ভারী যানবাহন ও ছোট যানবাহনের একসঙ্গে চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ইটবাহী ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মতো যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সড়কে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বলে তারা মনে করছেন।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ সড়কগুলোতে ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গতি সীমা নির্ধারণ এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলে একাধিক যাত্রী বহনের ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে বলে তারা মত দিয়েছেন।
নিহত আব্দুস সালামের মৃত্যুতে কেশবপুরের ব্যবসায়ী সমাজেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। অনেকেই তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—সড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন কত বড় ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারে। স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।