
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধশীল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশ্নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুরে নিজ বাসভবনে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই আদর্শই হবে নতুন বাংলাদেশের পথনির্দেশক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “অনেকেই বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি রয়েছে। এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সে কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে শুদ্ধাচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার সফল হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এখানে স্বচ্ছতা ও সেবার মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসাসেবা যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে—সে লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় কাজ করবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে বলেও তিনি জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনেই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই তার এলাকার জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণ তার কাজের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু একটি এলাকা নয়—সমগ্র দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি যেমন দায়বদ্ধতা রয়েছে, তেমনি যারা ভোট দেননি, তাদের প্রতিও আমাদের সমান দায়িত্ব আছে।” তার মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকার মানে শুধু সমর্থকদের নয়, বরং পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করা।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভাজন ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, “সব ধরনের প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক কু-চিন্তা পরিহার করে একটি নতুন, সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।” এই লক্ষ্যে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে কেবল অতীত স্মরণ নয়, বরং সেই আদর্শকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর করা।
এই মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, চালাকচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার মাহমুদ হাসান ফুটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সমর্থন জানান এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সামনে রেখে, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে এবং রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ নির্মাণই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।