গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর উপজেলা-তে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার খোদ্দ মোজাহিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাহপুর থানা-র ওসি মো. আলীম উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, ভোররাতে স্থানীয় লোকজন দুইজন ব্যক্তিকে ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক করেন। একপর্যায়ে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ছিনতাইয়ের কিছু অভিযোগ উঠেছিল। এ কারণে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। ঘটনার রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের আটক করেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।
ওসি মো. আলীম উদ্দিন বলেন, “নিহত দুইজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে গণপিটুনি দিয়ে কাউকে হত্যা করা আইনবহির্ভূত এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে ধরাই সঠিক পন্থা।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সাদুল্লাহপুর উপজেলার খোদ্দ মোজাহিদপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
