ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় সকালবেলা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে সেখানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে’ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ-এর তিনতলা কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী পরিত্যক্ত ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা স্লোগান দেন এবং দলীয় কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় কার্যালয়ের দেয়ালে দলীয় পতাকা, জাতীয় পতাকা এবং ‘তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা রেখে বক্তব্য দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মুশফিকুর রহমান চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়মিত কার্যালয়ে আসা-যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা তফাজ্জল হোসেন রনুর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভিডিও প্রকাশের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাত ৯টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও এনসিপির একদল নেতাকর্মী পূর্বে ভাঙচুর ও পোড়ানো অবস্থায় থাকা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা বিক্ষোভ করেন এবং দেয়ালের ইট হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ভবনের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এতে ভবনের ভেতরের অংশ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর বিক্ষোভকারীরা থানায় গিয়ে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা দাবি করেন, এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলা এনসিপি কমিটির সদস্য মাসুদ রানাকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস এবং জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব তৌহিদ আহমেদসহ আরও কয়েকজন নেতা।
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজনৈতিক এই নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ তারাকান্দা উপজেলায় নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির পরবর্তী গতি।
