প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া ১৪ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত আছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী; উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই বৈচিত্র্যময় কমিটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকি নিশ্চিত করবে।
এর আগে বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারদের প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ বলেন, ঈদের আগে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই কিছু জেলা ও উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে এই সুবিধা দেওয়া হবে হতদরিদ্র পরিবারকে। ধাপে ধাপে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এখন পর্যন্ত নগদ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য এই নগদ অর্থ অনেক গুরুত্ব বহন করে। দু-এক দিনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কতজন মানুষ এ সুবিধা পাবেন তা নির্ধারণ করা হবে।”
কমিটির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনযাত্রা উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে এবং কোনো প্রকার অসুবিধা বা অনিয়ম থাকলে তা সমাধান করবে।
মহিলা ও শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর কমিটির সাথে সমন্বয় করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাধ্যমে ডিজিটাল রেকর্ড ও অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে, যাতে সুবিধাভোগীরা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সেবা পান।
এই উদ্যোগ সরকারের পলিসি অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য লাঘবের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারের নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সদস্যরা। সরকারের লক্ষ্য এই প্রকল্পকে টেকসই ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা, যাতে জনগণ সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারে এবং প্রান্তিক পরিবারদের জীবনে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
