
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণইফতারে অংশ নিয়েছেন নুরুল হক নুর। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আল রাজী কমপ্লেক্স-এর সামনে গণঅধিকার পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ গণইফতার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নুরুল হক নুর এ আয়োজনে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইফতার করেন। এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং সাধারণ জনগণও অংশগ্রহণ করেন। রমজানের প্রথম দিনেই এমন আয়োজনে অংশগ্রহণকে দলীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রমজান মাসজুড়ে গণইফতার কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি পুরো রমজান মাসব্যাপী চলবে। প্রতিদিন নির্ধারিত স্থানে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হবে।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, এ কার্যক্রম জনগণের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং সহযোগিতা করেন। তিনি আরও জানান, যে কেউ চাইলে এই গণইফতার কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে পারেন।
গণইফতারকে কেন্দ্র করে দিনভর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিকেল থেকে নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ইফতার সামগ্রী বিতরণ এবং আসনবিন্যাসের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে আজানের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন। পুরো আয়োজন ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রমজানের শুরুতেই এমন উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। গণইফতার শুধু ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রমজান মাসে গণভিত্তিক কর্মসূচি দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম। বিশেষ করে রাজধানীর মতো ব্যস্ত নগরীতে উন্মুক্ত গণইফতার আয়োজন রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা বহন করে।
প্রথম রমজানে আয়োজিত এ গণইফতার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, মাসব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
রমজানের তাৎপর্যকে সামনে রেখে গণঅধিকার পরিষদের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের মতে, এ ধরনের উন্মুক্ত আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।