
রমজানের শুরুর দিকে অনেক মুসলিম ভুল করে খাবার খেয়ে বা পানাহার করে ফেলেন। তবে ইসলামের শাস্ত্র অনুযায়ী, যদি কেউ সত্যিই ভুলবশত খায় বা পান করে, তার রোজা ভেঙে যাবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
إِذَا نَسِيَ فَأَكَلَ وَشَرِبَ، فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ، فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ[বুখারি ১৯৩৩]
অর্থাৎ, কেউ ভুলে খাবার খায় বা পান করে ফেলে, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহ তাআলা তাকে খাওয়েছেন ও পান করিয়েছেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে। যদি কেউ ভুল করে খেয়ে বা পানাহার করার পর মনে করে যে রোজা ভেঙে গেছে এবং সেই ধারণা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আরও কিছু খায় বা পান করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। এই ক্ষেত্রে সেই দিনের রোজা পরবর্তীতে কাজা করতে হবে, তবে কাফফারা আদায় করতে হবে না।
এছাড়া, ভুলবশত খাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা ও ইসতেগফার করা উত্তম। ইসলামের বিভিন্ন কিতাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে, যেমন: কিতাবুল আছল ২/১৫৫, বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৮, খিজানাতুল আহকাম ১/৩০০, ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/২২৪, আল-মুহিতুল বুরহানি ৩/৩৬৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৮, রদ্দুল মুহতার ২/৪০৫।
সাধারণভাবে বলা যায়, রোজা কেবল খাওয়া বা পান করাকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; এটি আত্মসংযম, ধৈর্য ও নৈতিক সচেতনতার মাস। ভুলবশত কোনো পানাহার করলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভুলটি উপলব্ধি করে আল্লাহর নিকট তওবা ও ইসতেগফার করা উচিত।
সংক্ষেপে:
ভুলবশত খাবার বা পানাহার করলে রোজা ভাঙবে না।
যদি ভুলের পরে ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা হয়, রোজা ভেঙে যাবে।
কাজা রোজা অবশ্যই রাখতে হবে, কিন্তু কাফফারা দিতে হবে না।
আল্লাহর কাছে তওবা ও ইসতেগফার করা উত্তম।
রমজান মাসে সিয়ামের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া, আত্মসংযম ও চরিত্রশুদ্ধি। তাই ভুলের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে, নৈতিক ও ধার্মিকভাবে রোজা চালিয়ে যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।