
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশাসনের হুমকি ও নির্বাচনী চাপে আপস না করার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে রমজানের প্রথম তারাবির নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের মেরে ফেললে মেরে ফেলুক, আমরা অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতেই থাকব, মুখ বন্ধ করব না।”
ঢাকা-৮ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নেতা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ক্রিমিনাল এবং ব্যবসায়ী তাকে “ডিল” করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রশাসনের লোকজনও এসে বলেছে—‘মুখ বন্ধ করো, আমরা তোমাকে জিতিয়ে দেবো’। কিন্তু আমি কারও সঙ্গে আপস করিনি।"
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভবিষ্যতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাখা হবে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রমজানে এই ধরনের লোকদের কাছে হেদায়েত ও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি ভোট চুরি করতে আসে, তাহলে তার সঙ্গে যাঁরই সম্পর্ক থাকুক—হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, “এটি ওসমান হাদির আসন; আমরা এখানে স্বপ্নের ইনসাফ কায়েম করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, আগামীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া তাদের মূল লক্ষ্য নয়। বরং তাদের লক্ষ্য হলো সিস্টেম পরিবর্তন করা। পাটওয়ারী বলেন, “আমাদের কাজ হবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থায় সুষ্ঠু পরিবর্তন আনা। আমরা এই লক্ষ্যেই কাজ চালিয়ে যাব।"
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনের আগে ও পরে যে রাজনৈতিক হুমকি ও চাপে পড়েছেন তা দেশের রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তার কঠোর অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি যে, তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যেকোনো পরিস্থিতিতে কথা বলবেন, তা সাধারণ মানুষের কাছে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, জনগণের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা খুব জরুরি। শুধু নির্বাচনে জয় বা পরাজয় নয়, জনগণকে দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন করা তার মূল লক্ষ্য। এ প্রেক্ষাপটে তার রমজানে দেওয়া সতর্কবার্তা ও হেদায়েত জনগণকে সচেতন করার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এনসিপি নেতা আরও বলেন, তার দলের উদ্দেশ্য হলো ভোটের পদ্ধতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির জন্য সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে।
রমজানের শুরুতে এই বক্তব্য তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞার পরিচায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি সবার কাছে বার্তা দিয়েছেন, চাপে বা হুমকিতে আপস করা তাদের রাজনৈতিক নীতি নয়।