
মাহে রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তুলনামূলক কম দামে সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এ লক্ষ্যেই সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলা সদরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দোকানের উদ্বোধন করেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা জাহান সুমাইয়া, কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো রমজান মাসে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়, তা কিছুটা কমানো।
এই ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে নির্ধারিত দামে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ক্রেতারা সর্বোচ্চ দুই হালি ডিম ৩২ টাকা দরে কিনতে পারবেন। এছাড়া ১ লিটার গরুর দুধের দাম রাখা হয়েছে ৭৫ টাকা, ১ কেজি ছোলাবুট ৮৫ টাকা এবং ১ কেজি আলু ২৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এসব পণ্যের দাম স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় কিছুটা কম রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এগুলো কিনতে পারেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও কৃষি অফিস বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে এসব পণ্য দোকানির কাছে সরবরাহ করছে। ফলে দোকানটি বাজারের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছে। স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী এই দোকানটি পরিচালনা করছেন। তিনি প্রশাসনের সহায়তায় নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করছেন, যাতে ক্রেতারা সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেতে পারেন।
রমজান মাসে খাদ্যপণ্যের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। এ সময় অনেক ক্ষেত্রে বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, রমজান মাসজুড়ে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নিত্যপণ্য কম দামে সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ছোলা, ডিম, আলু এবং গরুর দুধ রয়েছে। দোকানটি বাজারের তুলনায় কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করবে, যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হন। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আরও কিছু পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, রমজান মাসে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেলে অনেক সময় সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কম দামে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।
প্রশাসনের আশা, এই ন্যায্যমূল্যের দোকান রমজান মাসে স্থানীয় মানুষের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণেও এই ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও পণ্য যুক্ত হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।