
উত্তর কোরিয়া তাদের শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে নতুন করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, দেশটি ৫০টি নতুন রকেট লঞ্চার মোতায়েন করছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি তুলে ধরতে চায়। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে—এমন বার্তাও বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই রকেট লঞ্চারগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। কিম জং উনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল পিয়ংইয়ংয়ের ‘হাউস অফ কালচার’ প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধভাবে লঞ্চার ট্রাকগুলো রাখা হয়েছে। অতীতেও এই স্থানটি দলীয় সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সম্মেলনের আগে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এভাবে প্রকাশ্যে লঞ্চারগুলো প্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যানগুলো ৬০০ মিলিমিটার মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম বহন করতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্নত নির্দেশনা প্রযুক্তি এবং স্বচালিত থ্রাস্ট ব্যবস্থার কারণে এই লঞ্চারগুলো কার্যত স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত এবং নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে।
এক ভাষণে কিম জং উন বলেছেন, নতুন লঞ্চারগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত নির্দেশিকা প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে, যা একটি ‘কৌশলগত মিশন’ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত। তার বক্তব্যে পারমাণবিক সক্ষমতার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এছাড়া তিনি আরও জানান, আসন্ন দলীয় সম্মেলনে দেশের পারমাণবিক সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। এই পরিকল্পনার মধ্যে নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ দেশটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে। নতুন করে রকেট লঞ্চার মোতায়েনের ঘোষণা সেই উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সব উদ্যোগ সম্পূর্ণভাবে দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করে, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, দলীয় সম্মেলন সামনে রেখে উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী সম্মেলনে দেশটির পারমাণবিক ও সামরিক নীতি নিয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।