
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ নির্ধারিত ভাষণ বাতিল করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে তার ভাষণ বাতিলের বিষয়টি গেটস ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়েছে। খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সব দিক বিবেচনা করে এবং সম্মেলনের মূল অগ্রাধিকারগুলোতে ফোকাস নিশ্চিত করতে, বিল গেটস এ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেবেন না।” একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে যে, গেটস ফাউন্ডেশন ভারতে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থার প্রধান নির্বাহীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্মেলনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতিমালা, নতুন প্রযুক্তির প্রভাব এবং এটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বিল গেটসের পরিবর্তে আফ্রিকা ও ভারত কার্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সেখানে বক্তব্য দেবেন। ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, ভাষণ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত অভিযোগ বা বিতর্কের কারণে নয়, বরং সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার রক্ষা করতে এটি নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গেটসের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সম্মেলন কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে না। কারণ এতে অংশগ্রহণকারী প্রধান প্রযুক্তি নেতা ও সরকারি প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত।
বিল গেটসের ভাষণ বাতিলের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ গেটস দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নে বৈশ্বিক প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত। তার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও গেটস ফাউন্ডেশন এখনও ভারতের স্বাস্থ্য ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে, ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশগ্রহণকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ, নৈতিক ব্যবহার, এবং প্রযুক্তির সুবিধা সবার জন্য কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে মূল আলোচনায় অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সম্মেলন থেকে যে সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা গ্রহণ হবে, তা ভারতের এআই নীতি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মানচিত্রে প্রভাব ফেলবে।
সংক্ষেপে, বিল গেটসের ভাষণ বাতিল হলেও সম্মেলনের মূল কার্যক্রম ও অগ্রাধিকার রক্ষা করা হচ্ছে। গেটস ফাউন্ডেশন নিশ্চিত করেছে যে, তারা ভারতের স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে আগের মতোই সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এবং ভবিষ্যতেও অংশগ্রহণ করবে।