
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইউপি সদস্য হাজী লিটন মিয়া ও সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুসা মিয়া-এর মধ্যে চাঁদাবাজি নিয়ে আদালতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর গ্রামের মুসা মিয়া গত বছর তার গ্রামের বাড়িতে একটি ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শুরু করেন, যার খরচ ছিল প্রায় তিন কোটি টাকা। এ সময় অভিযোগ উঠেছে যে, শিবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া ৪৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা না দিলে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ার হুমকি দেন।
ব্যবসায়ী মুসা মিয়া বাদী হয়ে ১৯ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে প্রধান আসামি ছিলেন লিটন মিয়া। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডি-কে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।
সিআইডির পরিদর্শক মোবারক হোসেন তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
তবে ইউপি সদস্য লিটন মিয়া বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, মামলাটি মিথ্যা এবং বাদী নিজেই চাঁদাবাজ। তিনি বলেন, “বাদী মুসা মিয়া এবং তার লোকজন এ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে মোট নয়টি মিথ্যা মামলা করেছেন। এর মধ্যে সাতটি মামলা থেকে আমি অব্যাহতি পেয়েছি। ইনশাল্লাহ, সুষ্ঠু তদন্ত হলে এই মিথ্যা মামলাতেও আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বাদী মুসা মিয়া বলেন, “আমি বহু বছর ধরে সৌদিতে ব্যবসা করি। গত বছর গ্রামে ডুপ্লেক্স ভবনের কাজ শুরু করি। লিটন মেম্বার ও তার দলবল আমাকে ৪৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমার ভবনের কাজ ব্যাহত করেছে। বাধ্য হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছি।”
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, “আদালতের নির্দেশে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করেছি। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখানে কাউকে প্রভাবিত করা হয়নি।”
এই মামলার ফলে নবীনগরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, আদালত এবং সিআইডির সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এর প্রভাব এলাকার উন্নয়ন কাজ ও সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণে পড়তে পারে।
মামলার তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হলে দেখা যাবে, আদালত কি স্থিতিশীল সিদ্ধান্ত দেন এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু প্রমাণিত হয়।