
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় মোবাইল চোর সন্দেহে পাঁচজনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কাঁচপুর ইউনিয়নের রায়েরটেক এলাকার পারটেক্স খেলার মাঠে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছে নিরব মিয়া, মো. সুজন, কাউসার মিয়া, সোহান ও চঞ্চল। তারা সবাই কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত আমিন মিয়া কাঁচপুর পুরান বাজার এলাকার কবির মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারটেক্স খেলার মাঠ থেকে নিরব মিয়ার একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় আমিন মিয়াকে সন্দেহ করা হয়। নিরবসহ আরও কয়েকজন তার কাছে মোবাইল ফোন ফেরত চেয়ে কথা বলতে যান। একপর্যায়ে আমিন তাদের খেলার মাঠে নিয়ে যান। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি পাঁচজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
আহতদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে আটক করেন এবং পুলিশে সোপর্দ করেন। সোনারগাঁও থানায় আহত নিরব মিয়ার খালা শিউলি বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। মামলা নথিভুক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তার সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ বলছে, এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা যায়।
স্থানীয়রা এই ঘটনা সম্পর্কে জানান, মোবাইল চুরির মতো ছোট ঘটনায় যে ধরনের উত্তেজনা দেখা দেয়, তা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ায় শান্তি ফিরেছে।
পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান রাখছে। পারটেক্স খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয়দের কাছে পুলিশের প্রাধান্য এবং আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করা হবে এবং জননিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।