
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য সতর্ক প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন দেশের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। পেন্টাগনের কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজন হলে শনিবার থেকেই হামলা শুরু করা সম্ভব, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসে ঝুঁকি, সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয় নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা চলছে।
মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র সিবিএস নিউজ-কে জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতি থাকলেও এখনো সরাসরি হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে বলেও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য অভিযানের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কূটনৈতিক কর্মী সাময়িকভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সরানো হচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এটি ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। তবে এটি হামলার অবশ্যম্ভাবিতা নির্দেশ করে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শন জোরদার করেছে। ইতিমধ্যে সেখানে বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ অবস্থান করছে। দ্বিতীয় রণতরী USS Gerald R. Fordও অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। আশা করা হচ্ছে, মার্চের মধ্যভাগের মধ্যে মোতায়েনকৃত সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে নানা যুক্তি থাকলেও কূটনীতি প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। তিনি উল্লেখ করেছেন, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ এসেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সূত্র বলছে, ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হলে ইসরায়েলি পদক্ষেপে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের USS Gerald R. Ford-কে সমুদ্রের তলদেশে দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ছবি প্রকাশ করেছেন। বার্তায় তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক অস্ত্র ইরানের হাতে রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি যে অত্যন্ত সংবেদনশীল তা স্পষ্ট। আগামী কয়েকদিনে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও অঞ্চলে অবস্থানরত বাহিনী মোতায়েনের রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে, কারণ সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় পর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি করছে।