পবিত্র রমজান মাসের সাহরির সময় বগুড়া সদর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) একটি অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মোট ৩ হাজার পিস কমলা রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএনসির সূত্র জানায়, অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। বগুড়া জেলা কার্যালয়ের একটি দল নওদাপাড়ার টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল-এর সামনে অবস্থান নেন। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে ঢাকা থেকে রংপুরগামী “তাজ পরিবহন” নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বোনগাঁও কালিতলা গ্রামের মো. মানারুল ইসলাম ওরফে মান্না (২৮) এবং একই উপজেলার মেদনী সাগর ফজুপাড়া গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন (৩০)। বাসের জি-১ ও জি-২ নম্বর সিটে বসা তাদের দেহ তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, রমজানের সাহরির সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজরদারি কিছুটা শিথিল হতে পারে, এই ধারণা থেকে তারা মাদক পাচারের চেষ্টা করেছিলেন। উল্লেখযোগ্য যে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে বাসে কোনো টিকিট ছিল না।
এ ঘটনায় ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয়ের এসআই মো. শাহ আলম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ডিএনসির বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জিললুর রহমান জানান, “মাদক পাচারকারিরা ধর্মীয় আবেগের সময়টিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছি। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ অভিযান নির্দেশ করে যে, পবিত্র মাহে রমজানও মাদক পাচারকারীদের জন্য কোনো বাধা নয়, বরং তারা এই সময়ে নজরদারি কম থাকার সুযোগ নিতেও চায়। ডিএনসি এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন ও সমাজ থেকে মাদকদ্রব্য দূরীকরণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিএনসি জোর দিয়ে বলেছে, ধর্মীয় মাসের সময় মাদক পাচারের মতো অপরাধ কখনো ছাড় পাবে না এবং সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেতন থাকবে।
রমজানের সাহরির সময় চালানো এই অভিযান প্রমাণ করে যে, ডিএনসি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়ভাবে মাদক প্রতিরোধে কাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের মাদক পাচারের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিরোধ করছে।
