
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো ব্যাজ ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাতৃভাষার শহীদদের স্মরণে এসব প্রতীকী কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সমবেত হবেন। সেখান থেকে ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
এ ছাড়া দিবসের ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর প্রধান ক্যাম্পাস, নগর কার্যালয় এবং সব আঞ্চলিক কেন্দ্রে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। পাশাপাশি কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে শোকের প্রতীক হিসেবে।
আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে পরিচালকদের নেতৃত্বে অভিন্ন ব্যানারে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে বলা হয়েছে। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বজায় রেখে নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কালো ব্যাজ ধারণের অনুরোধ জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহান শহীদ দিবস কেবল শোকের দিন নয়, এটি ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ স্মরণ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। তাই সকল পর্যায়ে শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও ঐক্যের মাধ্যমে দিবসটি পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।