
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় মানুষের স্বাবলম্বিতা বাড়াতে দোকান স্থাপনে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জানা গেছে, দেবিদ্বারের এক নারীকে দোকান চালুর জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ঘোষণামতে, আগামী ১ মার্চ এ অর্থ প্রদান করা হবে। এই সহায়তা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার বন্ধুরা যে অর্থ সহায়তা করেছিলেন, তার একটি অংশ উদ্বৃত্ত রয়েছে। তিনি বলেন, সেই অর্থ নিজের কাছে না রেখে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলতে ব্যয় করা হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকার সাধারণ মানুষকে স্বনির্ভর করতে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। দোকান স্থাপনে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ সেই লক্ষ্য থেকেই নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া তিনি দেবিদ্বার এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ইজারাদারদের নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে কোনো অর্থ আদায় না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
শুধু সাধারণ ব্যবসায়ী নয়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৪ আসন থেকে বিজয়ী হন হাসনাত আবদুল্লাহ। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন জানার চেষ্টা করছেন তিনি। এ প্রেক্ষাপটে দোকান স্থাপনে অর্থ সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। তবে ঘোষিত সহায়তা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার প্রক্রিয়া ও পরিধি নিয়ে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
হাসনাত আবদুল্লাহর এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করেছে। কর্মসংস্থান, চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ এবং শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তিনি যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।