
আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছেন। রিটে দাবি করা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ অবৈধ এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া এই সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করার জন্য আদালতের নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। আইনজীবী জানান, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি রিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন। সেই রিটে একই সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিলের আবেদনও করা হয়েছে।
এই রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। জানা গেছে, রিটে সরকারের পক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য আদালতের নির্দেশনার দাবি জানানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
গণভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দেশের সর্বশেষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়লাভ করেছে। মোট ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, এবং বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। রিটের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ফলাফল এবং সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়া সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, রিটের উদ্দেশ্য হলো দেশের সংবিধান রক্ষা করা এবং অবৈধ সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আদালত এই রিট বিবেচনা করে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান করবেন।
এই রিট দায়েরের মাধ্যমে দেশের জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিশ্চিত করা হবে যে, নির্বাচনী ও সরকারি নীতিমালা সংবিধানানুগ হবে এবং জনস্বার্থে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালত প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর পর্যবেক্ষণও রাখতে পারবেন।
সার্বিকভাবে, জুলাই সনদ সংক্রান্ত হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিটটি দেশের সংবিধান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সরকারি নীতিমালার বৈধতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।