
দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করেছে। স্বর্ণ ভরিতে দাম বড়ভাবে পতনের পর নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। এইদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এইভাবে নির্ধারিত হয়েছে:
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা
১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদের কারণে মজুরিতে কিছু তারতম্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৮ দফা এবং কমানো হয়েছে ১২ দফা। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৬৪ বার, এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
এই নতুন দামের কার্যক্রম বড় পতনের পর বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আগ্রহ বজায় রাখতে বাজুস এই সমন্বয় নিয়মিতভাবে করছে।
বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, দেশীয় চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক তেলের দামসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারেও এই ধরনের সমন্বয় স্বাভাবিক।
সার্বিকভাবে, বড় পতনের পর আজ থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু হওয়ায় ক্রেতাদের জন্য সুবিধা, আবার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের জন্যও সহায়ক হবে। নতুন দামে স্বর্ণ কেনা-বেচা এখন থেকে কার্যকর, এবং ক্রেতাদেরকে আগের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।