সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে পবিত্র রমজান মাসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন ভোলার বিভিন্ন দরবারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে প্রথম তারাবির নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে তারা রমজানের সূচনা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলা জেলার সাতটি উপজেলা—ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা—এর অন্তত ১০টি গ্রামে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার অনুসারী একদিন আগে রোজা পালন শুরু করেছেন। তারা নিজ নিজ মসজিদ ও পাঞ্জেখানায় এশার নামাজের পর তারাবি আদায় করেন এবং ভোররাতে সাহ্রি গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক দরবারের অনুসারী রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার, সুরেস্বর দরবার শরিফ, মাইজভান্ডার দরবার, আটরশি দরবার ও দুদুমিয়া দরবার-এর অনুসারীরা।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামে প্রায় এক হাজার এবং একই ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামে আরও প্রায় এক হাজার সুরেস্বর দরবারের অনুসারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাতে এসব গ্রামে তারাবির নামাজ আদায় করা হয় এবং ভোরে সাহ্রি খেয়ে বুধবার থেকে রোজা পালন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুলাইপত্তন গ্রামের সুরেস্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে মো. সুমন বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের গ্রামে এক হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছেন এবং প্রতিবছরের মতো এবারও তারা একই পদ্ধতিতে রোজা পালন করছেন।
মনিরাম গ্রামের সুরেস্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে রাসেদুল ইসলাম বলেন, তারা একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করেন—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তার দাবি, ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন। পৃথিবীর যে–কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তারা রোজা ও ঈদ পালন করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে এসব এলাকায় একই নিয়মে রোজা ও ঈদ পালন করা হয়ে আসছে। জাতীয়ভাবে চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার সঙ্গে ভিন্নতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দরবারের অনুসারীরা নিজেদের অনুসৃত পদ্ধতিকে ধর্মীয়ভাবে বৈধ মনে করেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ভিত্তিতে রমজান ও ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে দেশের কিছু অঞ্চলে নির্দিষ্ট দরবার বা ধর্মীয় অনুসারীদের মধ্যে ভিন্ন সিদ্ধান্তের নজির রয়েছে।
ভোলার এসব গ্রামে আগাম রোজা শুরু হলেও জেলার অন্য এলাকাগুলোতে জাতীয় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন মুসল্লিরা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের বাধা বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিকভাবে, ভোলার অন্তত ১০টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রমজান শুরু হলেও বিষয়টি স্থানীয় ধর্মীয় অনুসারীদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ফল বলে জানা গেছে।
