
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জানা যায়, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম এবং মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মোড়লের অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই মতবিরোধ ও আধিপত্য নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ইমরান, ইরাদুল মোল্লা, কামরুল শেখ, সাদি শেখ ও আনোয়ারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল এলাকায় আহতদের স্বজন ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পূর্বের বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। তারা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। বিভিন্ন সময় ছোটখাটো বাগ্বিতণ্ডা হলেও এবার তা বড় আকার ধারণ করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় আধিপত্য ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক সময় বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়। তেরখাদার ঘটনাও তারই একটি উদাহরণ। তবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দলীয় পর্যায়ে সমঝোতা ও সংলাপ প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত আবারও দেখা দিতে পারে।