
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা এলাকায় বিদ্যুৎস্পর্শে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার মতলব পৌরসভার দক্ষিণ নলুয়া গ্রামের খান বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সাবেক সেনা সদস্য শাহাদাত হোসেন খানের স্ত্রী রিনা বেগম (৫৫) এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান (৩৩)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির সামনের পুকুর থেকে পানি তুলে পাশের জমিতে দেওয়ার জন্য একটি বৈদ্যুতিক পাম্প মেশিন বসানো হয়েছিল। রাতের দিকে পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে রাসেল খান বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছেলেকে বিদ্যুৎস্পর্শে কাঁপতে দেখে পাশে থাকা মা রিনা বেগম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাম্প মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নিহতদের স্বজন তানজিনা নাহার জানান, রিনা বেগমের বাড়ি চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকায়। পরিবারটি সম্প্রতি একাধিক শোকের ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছে। তার ভাই মো. সাঈদ মিয়াজী তিন মাস আগে মারা যান। এর এক বছর আগে দুই ভাই নান্নু মিয়াজী ও সাঈদ মিয়াজীর স্ত্রীও মৃত্যুবরণ করেন। সর্বশেষ রিনা বেগম ও তার ছেলে রাসেলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় বৈদ্যুতিক পাম্প বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংযোগ দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে মানা হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগে মূল সুইচ বন্ধ রাখা, শুকনো হাত ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নেওয়া উচিত।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকাবাসী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সামান্য অসাবধানতার কারণে একটি পরিবারে এমন করুণ পরিণতি নেমে এসেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মা-ছেলের একসঙ্গে মৃত্যুতে দক্ষিণ নলুয়া গ্রামে শোকের মাতম চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পুলিশ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।