
রাজধানীর মিরপুরে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে “আবর্জনামুক্ত” করার বার্তা দিয়েছেন শফিকুর রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরের মনিপুর এলাকায় রাস্তা পরিষ্কার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করতে চাই। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ব। নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করলে দেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।” তার বক্তব্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়—যার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
সকালে ফজরের নামাজের পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে তিনি নিজ হাতে রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কার করেন। সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা পলিথিন ব্যাগে আবর্জনা সংগ্রহ করেন। কর্মসূচিটি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় তার সঙ্গে ঝাড়ু হাতে দেখা যায় ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকেও। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সব স্তরে পরিচ্ছন্নতার মানসিকতা গড়ে তোলা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, “জুলাই না এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধীদলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা।” তার এ বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রতীকী কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। একদিকে এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার আহ্বান হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া নতুন নয়; তবে বিরোধীদলীয় প্রধানের সরাসরি অংশগ্রহণ বিষয়টিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হবে। দলের নেতারা মনে করছেন, ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে হলে প্রতীকী উদ্যোগের পাশাপাশি নীতিগত সংস্কারও জরুরি।
সব মিলিয়ে, মিরপুরের এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্র সংস্কার, স্বচ্ছতা ও “জুলাইয়ের চেতনা” বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতার প্রতীকী বার্তার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কার ও নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে আনা হয়েছে—যা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।