নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগে দুটি কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জালকুড়ি মাদবর বাজার ও আমতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাবাসসুম হাসান তানিশা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত এই অভিযানে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, জালকুড়ি মাদবর বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘জিসান ওয়াশিং লন্ড্রি’ নামের একটি ওয়াশিং কারখানা দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অভিযানের সময় মোবাইল কোর্ট সেখানে অবৈধ সংযোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে কারখানাটির গ্যাসের উৎস পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মালিকপক্ষকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিনে আমতলা এলাকায় ‘বিসমিল্লাহ ফার্নিচার’ নামে একটি খানাটলি কারখানায়ও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও অবৈধ গ্যাস সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারখানাটির গ্যাসের উৎস লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং মালিককে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় মোট আদায় করা জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার দেশের জ্বালানি সম্পদের অপচয় ঘটায় এবং বৈধ গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাবাসসুম হাসান তানিশা বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সূত্র মতে, অভিযানের সময় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জরিমানা আরোপের মাধ্যমে শিল্পখাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈধ উপায়ে গ্যাস ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়া গ্যাস ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন এলাকায় তদারকি জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
