
ফরিদপুর শহরের পৌর বাস টার্মিনালে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিকাশ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নাজির বিশ্বাস (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ১১টার দিকে টার্মিনালের ভেতরে অবস্থিত বিকাশ পরিবহনের কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ব্যক্তির বর্ণনা অনুযায়ী, ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল হঠাৎ করে কাউন্টারে এসে হামলা চালায়। তাদের হাতে রামদা, লোহার দণ্ডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে।
আহত নাজির বিশ্বাস নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার লাহুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত তিন বছর ধরে বিকাশ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানের মালিকের মৃত্যুর পর থেকে তিনিই কার্যত পরিবহনটির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাউন্টার থেকে প্রতিদিন দূরপাল্লার উদ্দেশ্যে প্রায় ১২টি ট্রিপ পরিচালিত হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজির বিশ্বাস দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। শুরুতে তারা প্রতিটি ট্রিপ থেকে আটটি করে আসন নেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং প্রতি আসনের বিপরীতে ১০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলে। তিনি এতে সম্মতি না দিলে তাদের আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ওই চক্র প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ এককালীন দুই লাখ টাকা দেওয়ার জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে জানান। তার দাবি, এসব দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার দিন সকালে কয়েকজন ব্যক্তি কাউন্টারে এসে হুমকি দিয়ে যায় বলে জানান নাজির বিশ্বাস। তাদের ভাষ্য ছিল—দাবি পূরণ না করলে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিছু সময় পর একই দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। রামদা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
নাজির বিশ্বাস আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় মিলন, সবুজ ও প্রিন্স নামে তিনজনকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন। ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য, চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা যাত্রীসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর পৌর বাস টার্মিনালে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। আহত নাজির বিশ্বাসের চিকিৎসা চলছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সে দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।