
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ শুরুর আগেই শপথস্থল ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের সময় দেশি ও বিদেশি অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ধাপ শুরু হয়। এ পর্যায়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, শপথপত্রে নিজ আসন উল্লেখ করে সই করেন। কিন্তু ইশরাক হোসেন ও রুমিন ফারহানা শপথ স্থল থেকে বেরিয়ে যান।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার পেছনে বিএনপির নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয় রয়েছে। এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান এখনও জাতীয় সংসদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে বিএনপি কোনো এমপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধ্য করবে না। এই কারণেই নবনির্বাচিত কিছু এমপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়া দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণভোটে জয়ী হওয়ার পর সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব এই পরিষদের ওপর বর্তাবে। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করে সংবিধান অনুসারে দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে সমর্থন করবে।
এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দেশের শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নবনির্বাচিত সদস্যরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশের জনগণের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবেন।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, শপথগ্রহণের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করা হবে। এরপর বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নেবেন। এদিন সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন এবং আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনও জারি করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেল, সময়মতো শপথ স্থলে পৌঁছানোর গুরুত্ব এবং দলের নীতি অনুযায়ী সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়ার বাস্তব চিত্র। রুমিন ফারহানা ও ইশরাক হোসেনের আগে বের হয়ে যাওয়া ঘটনাটি সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।