
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে শপথ গ্রহণ করেছেন জামায়াত ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
এই শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ নজর কাড়েন হাসনাত আব্দুল্লাহ, যিনি তার আইকনিক সবুজ জার্সি পরে সংসদে প্রবেশ করেন। জার্সিটি সবুজ রঙের, সামনের অংশে স্পষ্টভাবে তার বিভাগের নাম লেখা ছিল, আর বাম দিকের ওপরের অংশে ফুটে উঠেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো। জার্সির পেছনে ছিল তার নাম ‘হাসনাত’ এবং ১০ নম্বর। এই জার্সি তাকে পরিচিত করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে।
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বিশেষ জার্সি পরে শপথ গ্রহণের ছবি ও মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জার্সি তার ব্যক্তিগত ইতিহাস, শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে। এটি সংসদে একটি স্বতন্ত্র ও চেনাজানা পরিচয় বহন করছে।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রথাগত ও সংবিধানগত নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়। এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। এরপর বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
হাসনাত আব্দুল্লাহর শপথ নেয়ার দিনে একাধিক আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম ছিল মন্ত্রিপরিষদ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি। এটি নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজনীতিক এবং সমালোচকরা এই মুহূর্তকে তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও শিক্ষাজীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতীকী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন। সবুজ জার্সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সমন্বিত এই পোশাক হাসনাতকে একটি স্বতন্ত্র চিহ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের এই মুহূর্ত দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নান্দনিক ও চমকপ্রদ সংযোজন।
সংক্ষেপে, হাসনাত আব্দুল্লাহর আইকনিক সবুজ জার্সি পরে সংসদে শপথ গ্রহণ শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন নয়, বরং তার রাজনৈতিক পরিচয় ও শিক্ষাজীবনের ইতিহাসকে তুলে ধরেছে। এই বিশেষ মুহূর্ত জাতীয় সংসদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।