
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়াকোবাদ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেলে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পর তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।
কায়াকোবাদ কুমিল্লা-৩ আসনের একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকাতেও তার শক্ত অবস্থান রয়েছে।
কুমিল্লা-৩ আসন থেকে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভিত্তির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে তিনি মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল পান ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৯ ভোট। ভোটের ব্যবধানই প্রমাণ করে যে এলাকায় তার প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং দলীয় উচ্চপদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের ধর্মীয় কার্যক্রম, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন তদারকির দায়িত্ব পালন করে থাকে। ফলে এ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কায়াকোবাদের নাম আগেই আলোচনায় আসে। অবশেষে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি দলীয়ভাবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং বারবার নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড তাকে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সব মিলিয়ে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন কায়াকোবাদ। এখন অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক শপথ এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার। তার নেতৃত্বে ধর্ম মন্ত্রণালয় কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।