
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বা অন্য দেশের নির্দেশনার ওপর বাংলাদেশ নির্ভরশীল নয়।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, “আজকের বাংলাদেশ নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল। বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।”
ড. ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বলেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ সময় কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না থাকলেও, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ইস্যুকে পুনরায় কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব নিজে বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং টেকসই সমাধানে সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন।
তিনি সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিদায়ী ভাষণে বলেন, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী উত্তাল সময়ে দেশের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য সৈন্যরা ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ প্রদর্শন করেছেন।”
ড. ইউনূস স্বৈরশাসনামলের ভয়াবহ নিপীড়ন, মামলা-হামলা, গুম ও হত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ যেন আর কখনো ফিরে না আসে, এজন্য ন্যায়বিচার ও বিচারব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য।
বিচারের প্রক্রিয়া চলছে; একাধিক ট্রাইবুনাল সক্রিয়, ইতোমধ্যে কিছু রায় ঘোষণা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিবাদের সময় দেশে গুমের সংস্কৃতির বিচারও শুরু হয়েছে।
জুলাই সনদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন। গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুলাই সনদের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসার পথ বন্ধ হবে।
তিনি শেষ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছোটবড় কাজের মধ্যে জাতি কখনো জুলাই সনদের কথা ভুলবে না। সনদ রচনা ও গণভোটে পাশ করানোর জন্য সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা।