
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫৬ বছরের পুরোনো নরহরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন নিজ ভবনে পাঠদান করতে পারছে না। ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন পরিত্যক্ত হয়েছে। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সেখানে ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বিদ্যালয়ের পাশের একটি মার্কেট ভবনে কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা বা পর্যাপ্ত ওয়াশরুম। ভাড়া বাবদ বছরে গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন মৃধা জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে ভবন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের মার্কেটের কক্ষে ক্লাস চালু রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্কুলটির ছাদ ভেঙে পড়ছে এবং যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে পাঠদান বিকল্প ভবনে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।