
নব নির্বাচিত সরকারের জন্য রমজান ও বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণ একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে। এর ফলে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খাদ্যপণ্য সহজলভ্য হবে।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, রমজান মাসে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তাকে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মধ্যে নিয়মিত ভোগ্যপণ্যের তালিকায় রয়েছে—সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা এবং খেজুর। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করবে, যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় কোনো প্রভাব না পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ করা আছে। যদি আমদানিকারকরা এই পণ্য সঠিকভাবে বিতরণ করেন, তাহলে বাজারে কোনো ঘাটতি দেখা যাবে না। অর্থনীতির স্বাভাবিক সংজ্ঞায় চাহিদা অনুযায়ী যোগান থাকলে মূল্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”
তিনি আরও বলেন, বন্দর কার্যক্রম ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে পণ্য ছাড় ও পরিবহন ব্যবস্থা বাধামুক্ত। বাজারে ঘাটতি বা অতিমূল্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ রাখা হবে না। সরকারের এই প্রস্তুতি নতুন সরকারের জন্য রমজানকে স্বস্তিদায়ক করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।
টিসিবি জানিয়েছে, ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাদের লজিস্টিক ও বিতরণ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। এতে করে শহর ও গ্রামের সব মানুষ সময়মতো পণ্য পাবে এবং বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আশা প্রকাশ করেছেন, “দেশবাসী এই রমজান মাসকে স্বস্তিদায়কভাবে পার করতে পারবে। পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য মজুদ থাকার কারণে কোনো প্রকার ঘাটতি বা মূল্যবৃদ্ধি হওয়া সম্ভব নয়।”
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং রমজানে স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।