
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়।
বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, সাধারণত তারা প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা কাজ করেন। তবে রমজান মাসে দৈনিক কর্মঘণ্টা দুই ঘণ্টা কমানো হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের ধরন ও ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী নমনীয় বা দূরবর্তী (রিমোট) কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে এবং কর্মীরা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাবেন।
সরকারি খাতের অফিসের সময়সূচিও সমন্বয় করা হয়েছে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। তবে যেসব পদে কাজের ধরন ভিন্ন, সেখানে এই সময়সূচি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
কর্মঘণ্টা কমানোর ফলে কর্মীরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারবেন। এছাড়া তারা ইবাদত, আত্মচিন্তা ও ব্যক্তিগত কাজের জন্যও সময় বরাদ্দ করতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে রমজান মাসে এই অতিরিক্ত সময় ধর্মীয় কার্যক্রম ও সামাজিক ক্রিয়াকলাপে ব্যয় করা যেতে পারে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বেসরকারি সংস্থাগুলো যাতে কর্মীদের সুবিধা অনুযায়ী সমন্বয় করতে পারে, সেই জন্য তারা প্রয়োজনীয় নমনীয়তা এবং রিমোট কর্মপদ্ধতির সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান মাসে কর্মঘণ্টা কমানোর নিয়ম নতুন নয়, বরং প্রতিবছরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় যাতে মুসলিম কর্মীরা ধর্মীয় আচার পালন ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। তবে বছরের বাকি সময় সাধারণ কর্মঘণ্টা ৮–৯ ঘণ্টা, যা এই মাসে স্বল্পীকৃত করা হচ্ছে।
এ ধরনের পদক্ষেপ কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কম সময় কাজ করার ফলে চাপ কমে, উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে এবং কর্মীর পরিবার ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা হয়।
সংক্ষেপে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান মাসে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কর্মঘণ্টা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের কর্মীরা দুই ঘণ্টা কম সময় অফিসে কাজ করবেন, প্রয়োজন হলে রিমোট পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে, এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য পারিশ্রমিক পাবেন। সরকারি খাতেও অফিস সময় কমানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে কর্মীরা ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে বেশি সময় দিতে পারবে।