
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং একই দিনে বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হবে। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি পরে নিশ্চিত করা হবে।
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এটি ঐতিহ্যগত প্রক্রিয়া অনুসারে করা হবে।
এবার মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ঐতিহ্যগত বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় (South Plaza) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। ড. আসিফ নজরুল জানান, বিএনপি এই স্থান বেছে নিয়েছে। তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, জুলাই ঘোষণা এবং জুলাই সনদের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও দক্ষিণ প্লাজা স্মরণীয়। এছাড়া প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ ওসমান হাদির জানাজাসহ অন্যান্য স্মৃতিসংবলিত কারণে এই স্থান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
প্রেসনোটে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দায়িত্বে থাকবে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিদেশি কোনো প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত আছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই শপথ অনুষ্ঠান ঐতিহ্য, স্মৃতি এবং রাজনৈতিক গুরুত্বের সমন্বয় হিসেবে পরিকল্পিত। শপথ গ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এই অনুষ্ঠান নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু এবং রাষ্ট্রীয় প্রথার অংশ হিসেবে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ দেশের জনগণের কাছে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বার্তা প্রদান করবে।