
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সাতবারের মতো পেছিয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ স্থগিত হয়েছিল। মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করলেও ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট ছিল না। ১২ জানুয়ারি মামলাটির শুনানির সময় বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান, যা আদালত মঞ্জুর করে। পরে মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়।
শরিফ ওসমান হাদি পূর্বে জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিত ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে তাকে আক্রমণ করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদির মৃত্যুর পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলা ৩০২ ধারায় পরিণত হয়। তদন্তে ডিবি পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ও অন্যান্য ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে গুলি করে হত্যা করেছেন। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে গ্রেফতার মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, হত্যার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে।
এই মামলার ধারাবাহিক স্থগিততা এবং তদন্তের জটিলতা আদালত ও তদন্ত সংস্থার ওপর নজর রাখার গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালত ও সিআইডি কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনের দাখিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।