
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংযম, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষায় সমৃদ্ধ রমজান মাস মানবজাতির জন্য শান্তি, কল্যাণ ও নৈতিকতার বার্তা বয়ে আনে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মাস কেবল রোজা পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
তিনি বলেন, মহিমান্বিত এ মাসে সিয়াম, দান-সদকা ও ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। রমজান মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য লাভ ও ক্ষমা প্রার্থনার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আমাদের ব্যক্তি ও জাতির জীবনে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচার পরিহার করে ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা দেয়। এ মাস ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা চর্চার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়।
তিনি বিশেষভাবে দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। রমজানের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় Muhammad Yunus বলেন, আসুন আমরা পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভোগ-বিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ ও অনৈতিকতা পরিহার করি। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে বেশি বেশি ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, তওবা ও সৎকর্মে মনোনিবেশ করি এবং রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি।
তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, যেন সবার রোজা, নামাজ, দান-সদকা ও সকল নেক আমল কবুল হয় এবং রমজানের শিক্ষা সারা বছর জীবনে কার্যকর করার তাওফিক দান করা হয়। পাশাপাশি তিনি দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস হিসেবে বিবেচিত। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন, তারাবিহ নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত এবং বেশি বেশি দান-সদকা এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
প্রধান উপদেষ্টার এই শুভেচ্ছা বার্তা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলি চর্চার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় রমজানের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে বার্তায়।
সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি সবাইকে ক্ষমা ও হেফাজত করেন এবং দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন। আমিন।