
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক বার্তা দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান Tarique Rahman-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এ ধন্যবাদ জানান। তিনি এটিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে “পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির নতুন ধারা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টায় Shafiqur Rahman-এর বাসায় এবং পরে রাত ৮টায় Nahid Islam-এর বাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টে সারজিস লেখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “পুরনো প্রতিহিংসার রাজনৈতিক কালচার বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির নতুন ধারা। তারেক রহমান সেই উদ্যোগ গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিরোধ ও বিভাজনের সংস্কৃতি বিদ্যমান। এমন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতে বিভিন্ন সময় পারস্পরিক সৌজন্য সাক্ষাৎ বা সংলাপের উদ্যোগ দেখা গেছে। তবে তা নিয়মিত বা ধারাবাহিক হয়নি। ফলে সারজিস আলমের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও এই সফরকে সৌজন্য ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংক্ষেপে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সারজিস আলম। তিনি এটিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির নতুন ধারার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।