বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, ব্যস্ত সূচির কারণে তিনি ঢাকায় আসতে পারছেন না বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে সার্কভুক্ত দেশসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণের কারণে ঢাকায় আসছেন না মোদি। ওই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।
তবে প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় আসতে পারেন। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র জানাজায় ভারতের পক্ষ থেকে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন দেখা দেয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নেওয়ার পর সেই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়। তবে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ দুই দেশের স্থবির সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।