
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পানিভর্তি বালতিতে পড়ে ডুমুর রানী নামের ১৭ মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুমুর রানী ওই গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ কুমার রায়ের মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শিশুটির মা রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তার বাবা ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ডুমুর রানী বাড়ির উঠানে খেলছিল। একপর্যায়ে সে বাড়ির নলকূপের পাশে রাখা পানিভর্তি একটি বালতি নিয়ে খেলতে শুরু করে। অসতর্ক মুহূর্তে শিশুটি বালতির ভেতরে পড়ে যায়।
কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা নলকূপের পাশে বালতির ভেতরে শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির পিতা সন্তোষ কুমার রায় বলেন, “আমার স্ত্রী রান্না করছিল আর আমি ঘরে ছিলাম। মেয়েটা উঠানে খেলছিল। কখন যে সে নলকূপের পাশে গিয়ে বালতির পানিতে পড়ে গেছে, আমরা বুঝতেই পারিনি।” তিনি আরও জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সর্বনাশ হয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে শিশুটির বাবা থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির উঠান বা নলকূপের পাশে পানিভর্তি বালতি বা ড্রাম অনেক সময় শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে অল্পবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা মুহূর্তের অসতর্কতায় ঘটে যেতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মত দেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প গভীর পানিতেও ছোট শিশুদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বাড়ির আশপাশে পানিভর্তি পাত্র খোলা অবস্থায় না রাখা এবং শিশুদের সবসময় নজরদারিতে রাখা জরুরি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একটি অসতর্ক মুহূর্ত যে কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।
সংক্ষেপে, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পানিভর্তি বালতিতে পড়ে ১৭ মাস বয়সী ডুমুর রানীর মৃত্যু হয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।