
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নে যুবদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। উল্লাপাড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন, উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিম সরদার এবং সেক্রেটারি আব্দুল কাদের খন্দকার। পুলিশ জানায়, এই অভিযান শনিবার সন্ধ্যায় উধুনিয়া ইউনিয়নের নিজ নিজ এলাকায় পরিচালিত হয় এবং রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শুক্রবার ভোরে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল বাজারে অবস্থিত উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফের দোকানে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দোকানটি ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে আব্দুল লতিফ ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান জয়লাভ করেন। এর পরের দিন ভোরে ‘পূর্বশক্রতার জেরে’ যুবদল নেতার দোকানে এই হামলা চালানো হয়। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে উক্ত জামায়াত নেতারা সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।
উল্লাপাড়া থানার ওসি সাকিউল আজম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলার বাদী আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, তার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলের পর বিভিন্ন এলাকায় পূর্বশক্রতার কারণে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। উল্লাপাড়া উপজেলায় এই ধরনের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষ হলেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কিছু পক্ষ পরস্পরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনার ফলে এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দ্রুত আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করেছে।
সংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল বাজারে যুবদল নেতার দোকানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় জনগণও আশা করছে, এই ধরনের সহিংসতা যেন পুনরায় না ঘটে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়।