ঢাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একটি প্রতিবাদ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এই মিছিল আয়োজনের মূল কারণ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ১১ দলীয় জোটের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে নির্বাচনের পর দলের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলার তথ্যও কমিশনকে জানানো হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনের পর আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। আমরা কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু সন্তোষজনক কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। তাই আমরা সোমবার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় ভয়-ভীতি ছড়িয়ে ভোটের উপস্থিতি কমে গেছে। ভোট গণনার সময়ও অনেক কেন্দ্রের এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা, কাটাছেঁড়া, ওভাররাইটিং, এবং অনেক জায়গায় আসল এজেন্টের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা-৬ আসনের ফলাফলের শিট উল্লেখ করেন, যেখানে পেনসিলে লেখা হয়েছে।
জোটের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ মিছিল সরকারের প্রতি নির্বাচনী শৃঙ্খলা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ভোটের প্রতি নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতার দাবিতে স্লোগান দেবেন।
তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারা এই অভিযোগগুলো পর্যবেক্ষণ করছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে জামায়াত জোটের পক্ষের মতে, দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এই প্রতিবাদ মিছিলকে ঘিরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলের সময় সম্ভাব্য অস্থিরতা রোধে প্রস্তুত থাকবে। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের পরে এই ধরনের সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগের কারণে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
সংক্ষেপে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সোমবার ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করবে। তাদের দাবি হলো নির্বাচনের পর সহিংসতা রোধ, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা। মিছিলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর ঘোষণা করা হলেও, তা দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
