বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে দুই বাসের সংঘর্ষে নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল হলো খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিএম লাইন পরিবহন খুলনার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা মাদারীপুরগামী রূপসী বাসটি ফকিরহাটে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ ঘটে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসগুলো এক ঘণ্টার মতো মহাসড়ক অবরুদ্ধ রাখে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মানবেন্দ্র নারায়ন সরকার (৪৫), নাছিমা বেগম (৬০), শিল্পী মন্ডল (৪০), রাজিয়া বেগম (৫০), সোনিয়া আক্তার (৩৫), নিরঞ্জন কুমার দাশ (৫০), হালিমা বেগম (৪২), মিনতী রানী ঢালী (৪০), কপিল রায়সহ ১৫ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জন নারী ও ৯ জন পুরুষ রয়েছেন। বেশিরভাগ যাত্রী রূপসী বাসের ছিলেন।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. বজলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। দুই বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে। বাসগুলোকে সড়কের উপর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রূপসী বাসের ব্রেক ফেল হওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার কারণে এলাকায় সকালভোর থেকে যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়। এতে অনেক যাত্রী রাস্তায় আটকে থাকেন। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা ঢাকার সঙ্গে খুলনার যাতায়াতের প্রধান মহাসড়কে সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রূপসী বাসের মতো পরিবহন যাত্রীবাহী গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত থাকলে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া সহজ।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ আরও সতর্ক রয়েছে। দুর্ঘটনা তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বাসগুলোতে নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন রোড দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
সংক্ষিপ্তভাবে, ফকিরহাটের এই ভয়াবহ বাস সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হলেও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনার কারণ তদন্তের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা করছে।
