
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি এবং ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগ তুলে পুনঃগণনার দাবি জানাতে ১১ দলীয় ঐক্য নেতারা রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিনে বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটে জালিয়াতি, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করা, ফলাফল শিটে ওভাররাইটিং এবং ঘষামাজার মতো অনিয়ম ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, কিছু কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশে অস্বাভাবিক দেরি হয়েছে, আবার কিছু কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎগতিতে’ ফল ঘোষণা করা হয়েছে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, যেসব আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হয়নি এবং অনিয়ম হয়েছে, সেসব আসনে পুনঃগণনার আবেদন করা হবে এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, ৩০টি আসনে পুনঃগণনা হলে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ পাবে এবং যাদের পরাজিত দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকেই বিজয়ী হবেন। তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল এবং শিটে যে অসংগতি দেখা দিয়েছে, তা সুষ্ঠু তদন্তে উদঘাটিত হতে হবে।
ড. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, ঢাকা-৬-এর কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল শিটে অসংগতি রয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে: এজেন্টের নামের গরমিল, এনআইডি নম্বর অনুপস্থিতি, ওভাররাইটিং, কার্বন কপি বা পেন্সিলে লেখা ফলাফল শিট ব্যবহার, ফটোকপি শিটের ব্যবহার এবং কলমে কেন্দ্রের নাম লেখা। এই ধরনের অনিয়ম নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ভোটারের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
১১ দলীয় জোটের নেতারা কমিশনের কাছে জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা পুনঃগণনা এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে ভোটারদের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও সমাধান না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে এখন দায়িত্ব বেড়ে গেছে, যাতে ভোটের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি নিশ্চিত করা যায়।