
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনের ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তার অনুসারীরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার এবং ফলাফল আটকে রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, অনেক কেন্দ্রে বাতিলকৃত ভোটগুলো ধানের শীষের অনুকূলে গণনাভুক্ত করা হয়েছে।
পাটওয়ারী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার এই অনিয়মে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং রিটার্নিং অফিসার অবৈধভাবে মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। তিনি সার্বিক বিবেচনায় ঢাকা-৮ আসনের ফলাফল স্থগিত করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুনঃগণনা না হওয়া পর্যন্ত এই আসনের নবনির্বাচিত প্রার্থীর শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও অনুরোধ করেছেন, ধানের শীষের ভোট থেকে অবৈধভাবে গণনাভুক্ত করা বাতিল ভোটগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে ফলাফল প্রকাশ করা হোক।
ঢাকা-৮ আসনের বেসরকারি ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫৯,৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪,১২৭ ভোট। ফলে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা সীমিত থাকায় পুনঃগণনার দাবির প্রেক্ষাপট আরও জোরদার হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধান না হলে সাধারণ জনগণের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা-৮ আসনের ভোট পুনঃগণনা ও অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং জনগণের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কমিশন নিশ্চিত করছে, সব প্রার্থী ও ভোটারদের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন হবে।